January 15, 2026, 5:11 pm
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে তারেক রহমানের জন্মদিনে ৪ সহস্রাধিক মানুষকে ফ্রী চিকিৎসাসেবা ও খাবার বিতরণ  কুড়িগ্রামে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অনিয়ম-দূর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস সহ প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবীতে কুড়িগ্রাম টিএসসি’র শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ভাইরাল প্রতিবেদনের পর সাড়া: নাজনীনকে চিকিৎসার দায়িত্বে তারেক রহমান জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট বৈশ্বিক জলবায়ু আন্দোলনের অংশ হিসেবে বেতাগীতে গ্রিন পিসের মানববন্ধন ও সমাবেশ কুড়িগ্রামে মালিকানা জমি খাস-খতিয়ানে রেকর্ড করে ইজারাদার দিয়ে মাছ চাষ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন রাজবাড়ীতে মানবিক সংগঠনের উদ্যোগে কম্বল, হুইল চেয়ার, গবাদিপশু বিতরণ ও সোলার লাইট স্থাপন কুড়িগ্রাম-৪ আসন: বিএনপির মনোনয়নের দাবিতে বঞ্চিত প্রার্থী মমতাজের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পুরান ঢাকায় জবি ছাত্রদলের  আহবায়ক সদস্য খুন

নয়া বাংলাদেশ ডেস্ক

বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম এক অনন্য দৃশ্যের সাক্ষী হলো। ভরা গ্যালারি, অশ্রুসিক্ত উল্লাস, আর সেই পরিচিত নম্বর–১০। লিওনেল মেসি জানতেন, এটাই তার দেশের মাটিতে শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ। ঠিক সেভাবেই সাজানো ছিল মঞ্চ: সন্তানদের হাত ধরে মাঠে প্রবেশ, টানা করতালি আর সমর্থকদের হৃদয়ভরা ভালোবাসা। আর পারফরম্যান্সে যথারীতি অতুলনীয়—দুটি গোল আর একাধিক স্মরণীয় মুহূর্তে ভরিয়ে দিলেন রাতটাকে।

‘দেশের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি,’ ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে বললেন মেসি। ‘অনেক বছর বার্সেলোনায় ভালোবাসা পেয়েছি, এখনো পাই। কিন্তু স্বপ্ন ছিল নিজের দেশে, নিজের মানুষের সামনে তা পাওয়ার। আজ সেই স্বপ্ন পূর্ণ হলো।’

প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের দারুণ পাস থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক। এরপর সমর্থকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো ‘লিও মেসি আছে পাশে, পুরো পথ আমরা পাড়ি দেব একসঙ্গে।’

দ্বিতীয়ার্ধে লাউতারো মার্টিনেজের হেডে আসে দ্বিতীয় গোল, আর কিছুক্ষণ পর থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে বোঝাপড়ায় মেসির দ্বিতীয় গোল—স্কোরলাইন ৩-০। যদিও একপর্যায়ে দুর্দান্ত চিপে হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি ছিলেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।

পুরো রাতজুড়ে মেসির চোখেমুখে ভেসে উঠেছিল আবেগ। ওয়ার্ম-আপেই করতালির বন্যা তাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল, ম্যাচ শেষে সন্তানদের নিয়ে দর্শকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে গিয়ে প্রায় চোখ ভিজে উঠেছিল। স্ত্রী আন্তোনেলা ও পরিবারের সদস্যরা গ্যালারি থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন সেই অনন্য মুহূর্ত।

ম্যাচশেষে মেসি স্মরণ করেন কঠিন সময়ের কথাও— ‘অনেক বছর নানা সমালোচনা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, কখনো সফল হয়নি। আজ সেসব ভেবেও গর্ব হয়। কারণ, শেষ পর্যন্ত এই ভালোবাসা পেয়েছি।’

ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নে সতর্ক উত্তর দিলেন তিনি: ‘আগামী নয় মাস দ্রুত কেটে যাবে। আমার লক্ষ্য ফিট থাকা, দিন-দিন করে এগোনো। আজ যা পরিষ্কার, সেটি হলো—এটাই দেশের মাটিতে আমার শেষ অফিসিয়াল ম্যাচ।’

বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে মেসির ঝুলিতে আছে কোপা আমেরিকা, ফাইনালিসিমা, কোপা ইউএসএ আর সর্বোপরি কাতার বিশ্বকাপের গৌরব। এবার যোগ হলো নিজের দেশে বিদায়ী রাতের অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

মনুমেন্টালের আলো–হাওয়ায় তাই এটি শুধু একটি জয় নয়; ছিল এক আবেগঘন বিদায়। আর মেসির নিজের কথায় সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, ‘দেশের মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের সাথেই থাকুন