January 18, 2026, 8:59 pm
শিরোনামঃ
কুড়িগ্রামে তারেক রহমানের জন্মদিনে ৪ সহস্রাধিক মানুষকে ফ্রী চিকিৎসাসেবা ও খাবার বিতরণ  কুড়িগ্রামে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অনিয়ম-দূর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস সহ প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবীতে কুড়িগ্রাম টিএসসি’র শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ভাইরাল প্রতিবেদনের পর সাড়া: নাজনীনকে চিকিৎসার দায়িত্বে তারেক রহমান জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট বৈশ্বিক জলবায়ু আন্দোলনের অংশ হিসেবে বেতাগীতে গ্রিন পিসের মানববন্ধন ও সমাবেশ কুড়িগ্রামে মালিকানা জমি খাস-খতিয়ানে রেকর্ড করে ইজারাদার দিয়ে মাছ চাষ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন রাজবাড়ীতে মানবিক সংগঠনের উদ্যোগে কম্বল, হুইল চেয়ার, গবাদিপশু বিতরণ ও সোলার লাইট স্থাপন কুড়িগ্রাম-৪ আসন: বিএনপির মনোনয়নের দাবিতে বঞ্চিত প্রার্থী মমতাজের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পুরান ঢাকায় জবি ছাত্রদলের  আহবায়ক সদস্য খুন

ভোরে হোটেল, দুপুরে কলেজ: বাবার হাত ধরেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কালাইয়ের নাসরিন

জয়নাল আবেদীন জয়, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:

ভোরে হোটেল, দুপুরে কলেজ: বাবার হাত ধরেই ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুনছেন কালাইয়ের নাসরিন

 

জয়নাল আবেদীন জয়, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:

হাজারো খাবার হোটেলের ভিড়ে চোখ থেমে যায় ছোট্ট একটি হোটেলে। নাম তার ‘নাসরিন হোটেল’। তবে এই নাম শুধু ব্যবসার জন্য নয়; নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সংগ্রামী কিশোরীর গল্প। বাবার সঙ্গে হোটেলে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন এবং নিজের পড়াশোনার খরচও তুলছেন ১৮ বছরের মেধাবী কলেজছাত্রী নাসরিন আক্তার।

 

বাবা মোকাব্বর মণ্ডলের সঙ্গে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বৈরাগীহাট মোড়ে গত পাঁচ বছর ধরেই এই হোটেল চালাচ্ছেন নাসরিন। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া এই ছাত্রী বর্তমানে কালাই সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন।

 

প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তাঁর জীবনযুদ্ধ চলে। ভোর ৫টা থেকে ৮টা পর্যন্ত হোটেলের সব আয়োজন সামলে তিনি ছুটে যান কলেজে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আবারও বাবার পাশে দাঁড়িয়ে রান্না, খাবার পরিবেশনসহ সব কাজ সামলান তিনি।

নিজের জীবনসংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে নাসরিন বলেন, ‘আমার বাবা গরিব মানুষ। হোটেলে কারিগর রাখার সামর্থ্য নেই। তাই আমিই সব কাজ করি—পুরি, পিঁয়াজু, শিঙাড়া বানাই, ভাত-মাছ-মাংস রান্না করি, আবার কাস্টমারের সামনে পরিবেশনও করি। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজে সাহায্য করি। দিনে গড়ে তিন-চার হাজার টাকার বেচাকেনা হয়। স্বপ্ন দেখি ভালো ফলাফল করে একদিন মেডিকেলে পড়ব।’

 

ট্রাকচালক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও নাসরিনের হোটেলের খাবারের প্রশংসা করেন। তাঁদের ভাষায়, ‘এখানে খাবার সুস্বাদু, দাম কম আর পরিবেশনে আন্তরিকতা আছে।’

নাসরিনের বাবা মোকাব্বর মণ্ডল মেয়ের জন্য গর্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মেয়েই আমাকে সব কাজে সহযোগিতা করে। মেয়ে হয়েও সে একজন ছেলের মতো পাশে দাঁড়ায়। এতে আমি গর্বিত।’

 

কালাই মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘নাসরিন ব্যবসা করে লেখাপড়া চালায় এবং কষ্টের মধ্য দিয়েই এসএসসিতে এ+ পেয়েছে। সত্যিই অবাক হই তার দৃঢ়তা দেখে। যদি সহযোগিতা করা যায়, এই মেয়েটা অনেক দূর যেতে পারবে।’

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহানও নাসরিনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘শুনেছি পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার হোটেল সামলাচ্ছে নাসরিন নামের ওই শিক্ষার্থী। এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে তার পড়াশোনায় যেন কোনো ক্ষতি না হয়—সেদিকে খেয়াল রাখাও জরুরি। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’

 

ছোট্ট হোটেলের চুলার আগুন আর খাতার পাতার অক্ষরের মাঝেই নাসরিন বুনে চলেছেন তাঁর স্বপ্ন। পরিবারকে ভরসা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও সম্পদ হয়ে ওঠার প্রতিজ্ঞা তাঁর। সংগ্রামী এই কলেজছাত্রী বিশ্বাস করেন, একদিন মেডিকেলে ভর্তি হয়ে তিনি ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের সাথেই থাকুন