August 30, 2025, 10:34 am
শিরোনামঃ
নুরের চিকিৎসায় ৬ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন  নরসিংদীতে টনসিল অপারেশনে শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক হেফাজতে রাজবাড়ীতে সাপে কেটে এক কৃষকের মৃ’ত্যু যাত্রাপুরে কবরস্থানের পাশে ড্রেজার ও পাইপ অপসারণ হাসনাত-সারজিসকে আলটিমেটাম, এনসিপিকে বর্জনের হুঁশিয়ারি পাঁচবিবিতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন, ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি কুড়িগ্রামে কলেজ মাঠ অক্ষত রেখে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে শিক্ষার্থী ও জনগনের মানববন্ধন বাক প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনের জয়যাত্রা: পলাশের মাসুম এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক বিশেষ সিন্ডিকেটে জকসু নীতিমালার অনুমোদন, সম্পূরক বৃত্তিতে নেই কোন অগ্রগতি

ভাই হত্যার সাক্ষ্য ঠেকাতে কৃষকের সর্বনাশ? শৈলকুপায় কেটে ফেলা হলো শত শত বেগুন ও কলাগাছ

এ.এস আব্দুর সামাদ, ঝিনাইদহ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ভাই হত্যার সাক্ষ্য ঠেকাতে কৃষকের সর্বনাশ? শৈলকুপায় কেটে ফেলা হলো শত শত বেগুন ও কলাগাছ

 

 

এ.এস আব্দুর সামাদ ঝিনাইদহ বিশেষ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আবারও দুর্বৃত্তদের নৃশংসতার শিকার হলেন এক কৃষক। এবার শুধু ফসল নয়, এর পেছনে ভাই হত্যার বিচার থামিয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১ নং ত্রিবেণী ইউনিয়নের পূর্ব বসন্তপুর গ্রামে কৃষক ইস্কান্দার আলীর ছয় কাটা জমির ধরন্ত বেগুন এবং দেড় শতাধিক কলাগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।
ভুক্তভোগী কৃষক ইস্কান্দার আলী সন্দেহ করছেন, তার ভাই রতন হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
সোমবার রাতে এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটে। সকালে কৃষক ইস্কান্দার জমিতে গিয়ে দেখেন তার স্বপ্নের ফসল মাটিতে মিশে গেছে। হাত দিয়ে প্রতিটি বেগুন উপরে ফেলা হয়েছে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কলাগাছের মাঝখান থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

আর্তনাদ করে ইস্কান্দার আলী বলেন, “আমার ভাই রতনকে হত্যা করা হয়েছিল। সেই মামলার বিচার শুরু হবে। আমরা যেন সাক্ষী দিতে না যাই, সেজন্যই প্রতিপক্ষরা আমাকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করে দিতে এবং ভয় দেখাতে এই কাজ করেছে। এটা শুধু আমার ফসল নষ্ট করা নয়, এটা আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার আটকানোর একটা ষড়যন্ত্র।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক কষ্ট করে আর ধারদেনা করে এই ফসল ফলিয়েছিলাম। আর কিছুদিন পরেই বেগুন ও কলা বিক্রি করে দেনা শোধ করার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু এক রাতেই আমার সবকিছু শেষ করে দিল। আমি এখন কী করব, কীভাবে বাঁচব?”
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কৃষক ইস্কান্দারের ভাই রতন হত্যাকাণ্ড নিয়ে গ্রামে একটি বিরোধ চলমান রয়েছে। মামলার বিচারকার্য এগিয়ে আসায় প্রতিপক্ষরা বিভিন্নভাবে ইস্কান্দারের পরিবারকে চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ফসলের মাঠ নষ্ট করার ঘটনাটি সেই চাপের একটি অংশ বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ফসলের সাথে শত্রুতা এক জঘন্য অপরাধ। এর সাথে যদি হত্যা মামলার সাক্ষীকে ভয় দেখানোর মতো বিষয় জড়িত থাকে, তবে তা আরও ভয়ংকর।

এ বিষয়ে ত্রিবেণী ইউনিয়নের বাসিন্দার রিপন হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা কৃষক ইস্কান্দারের পাশে আছি। ফসলের ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি এই ঘটনার পেছনের মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। প্রশাসনকে অনুরোধ করব, ভাই হত্যার মামলার বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

ভুক্তভোগী কৃষক ইস্কান্দার আলী এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় একটি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি তার ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং ভাই হত্যার ন্যায়বিচার উভয়ই দাবি করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমাদের সাথেই থাকুন