৫৩ বছর ধরে ভাত না খেয়েই বেঁচে আছেন রহমত আলী, এখন অভাব অনটনে কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন
নাজমুল হাসান ( নরসিংদী)
ভাত ছাড়া আমাদের জীবনের কল্পনাই করা যায় না। প্রতিদিনের তিনবেলার খাবার মানেই ভাত। কিন্তু নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর গ্রামের রহমত আলীর জীবনে ভাত যেন এক অঘোষিত নিষিদ্ধ নাম। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত ভাত মুখে তোলেননি তিনি। খেলে শরীরেই নেমে আসে অসুস্থতা। তাই একেবারেই বাদ দিয়েছেন ভাত। টানা ৫৩ বছর ধরে রুটি, ডাল আর মাংস খেয়েই বেঁচে আছেন তিনি।
রহমত আলীর বয়স এখন তিপ্পান্ন । জীবনের দীর্ঘ পথচলায় এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাস তার জন্য এক ধরনের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শৈশব থেকে ভাতের প্রতি তার একরকম আতঙ্ক কাজ করত। ভাত খেলেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। সেই ভয়েই ধীরে ধীরে রুটির প্রতি নির্ভরশীল হয়ে ওঠেন।
একসময় পরিবারের হাল ধরতে আগি গাড়ি চালাতেন রহমত আলী। সড়কের ধুলো-বালিতে কাটত তার কর্মব্যস্ত দিন। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তিনি। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। সংসার চালানোর একমাত্র ভরসা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
অসহায় কণ্ঠে রহমত আলী বলেন, “ভাত খেলেই শরীরে সমস্যা হয়। তাই ৫৩ বছর ধরে ভাত খাই না। এখন বয়সও হয়েছে, কাজকর্মও করতে পারি না। কষ্টে দিন কাটাই। সমাজের ভালো মানুষরা যদি একটু সাহায্য করতেন, হয়তো কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে রহমত আলী চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। অভাব অনটনের কারণে চিকিৎসাও নিতে পারেন না তিনি।
রহমত আলীর গল্প যেন এক অদ্ভুত বাস্তবতা— যেখানে বেঁচে থাকা মানেই রুটি আর ডালের ওপর নির্ভরশীলতা। আর আজ তার সবচেয়ে বড় প্রার্থনা হলো সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের সহযোগিতা।