সারা বাংলাদেশ

পাংশায় ভিজিএফ এর চাউল বিতরণে অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি। 

রাজবাড়ীর পাংশায় ভিজিএফ এর চাউল বিতরণে অজনে কম দেওয়া ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের ভিজিএফ এর চাউল বিতরণে এ অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র ঈদুল-ফিতর ২০২৫ উপলক্ষে দুঃস্থ, অসহায় ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করা ভিজিএফ এর চাউল বিতরণে এ অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার (২২মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলিমহর ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফ এর চাউল বিতরণ চলমান রয়েছে। পায়ের উপর পা তুলে বসে আছেন ট্যাগ অফিসার। উপকারভোগীদের বালতি ভরে চাউল দেওয়া হচ্ছে। সেখানে চাউল পরিমাপের কোন যন্ত্র নেই।

এ সময় স্থানীয়রা বলেন, ১০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা। কিন্তু সাড়ে ৮ কেজি থেকে ৯ কেজি করে চাউল দেওয়া হচ্ছে। কিছু ব্যাক্তি ৩০-৪০ কেজি করে চাউল নিয়ে যাচ্ছে। এতে চাউল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছে ইউনিয়নের অনেক দুঃস্থ, অসহায়, অতিদরিদ্র পরিবার।

ইউনিয়নের সাজুরিয়া গ্রামের বিধবা জোহুরা বেগম বলেন, আমার স্বামী নাই। আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। আমি চালের কার্ড পাইনি। অথচ অনেক মানুষ ৩-৪টা করে কার্ডের চাল নিয়ে যাচ্ছে।

ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা গ্রামের আহাদ আলী বলেন, তিন কার্ডের চাল পাইছি। দেওয়ার কথা ৩০ কেজি। চাল দেছে ২৭ কেজি।

সাজুরিয়া গ্রামের জোছনা বেগম বলেন, আমি দুই কার্ডের চাল নিছি। পরিষদের বাইরে এনে মেপে দেখি সাড়ে ৮ কেজি করে চাল।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রসাশনিক কর্তকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, আমাদের ইউনিয়নের ১৪০৩ জন উপকারভোগী পরিবার এই চাউল পাবেন। তারাহুরো করতে গিয়ে ২-১শত গ্রাম কম হতে পারে। 

ট্যাগ অফিসার উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হজরত আলী খান বলেন, বালতি ভরে ১০ কেজি করে  চাউল দেওয়া হচ্ছে। এখানে মিটার নেই। কেউ যদি চ্যালেঞ্চ করে মিটার এনে মেপে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোছা: বিলকিস বানু বলেন, আমি তিন দিন ধরে অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে কুষ্টিয়াতে আছি। তবে চাউল বিতরণের বিষয়টি আমি জানি। এটি গড়িব মানুষের চাউল। আমি কম দিতে নিষেধ করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম আবু দারদা বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম। সঠিক নিয়ম মেনে চাউল বিতরণের নির্দশনা দিয়েছি। ভবিষ্যতে এমন হলে প্রয়োজনীয় আইনানক ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

মতামত দিন