মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপির অফিসে ভাঙচুর
পাংশায় বিএনপির অফিস ভাঙচুর ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা, আহত-৯
পাংশা (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি।
রাজবাড়ীর পাংশায় বিএনপির অফিস ভাঙচুর ও মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাতে উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নে দক্ষিণ খোর্দ্দবসা (মুন্সী মোড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৯জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত একজন ঢাকা, দুইজন ফরিদপুর ও অন্যান্যদের মধ্যে ৪ জন পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে অন্যরা স্থারীয় ফার্মেসী থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে।
আহতরা হলেন, উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের তত্তিপুর গ্রামের নুরু ভূঁইয়ার ছেলে আকবর ভূঁইয়া (৪০), বাগ বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত ওমেদ আলী প্রামানিকের ছেলে মোহন প্রামানিক (৫৫), ফলিমারা গ্রামের আলতাফ শেখের ছেলে জহুরুল শেখ (২৩), একই গ্রামের মো. আরব আলী সরদারের ছেলে মো. খাজা সরদার (৩১), গোপালপুর গ্রামের মনিরুল খানের ছেলে তিয়াস (১৮), খোর্দ্দবসা গ্রামের ছুটি মন্ডলের ছেলে জয়নাল মন্ডল (৬৫), হোসেনডাঙ্গা গ্রামের সমশের সেখের ছেলে রিপন সেখ (২৭), হোসেনডাঙ্গা গ্রামের অরবিন্দু মন্ডলের ছেলে অমিত মন্ডল (২০) ও গোপালপুর গ্রামের মজিবরের ছেলে শিমুল (২৫)।
আহতদের মধ্যে আকবর আলী ঢাকা, মোহন প্রামানিক ও অমিত মন্ডল ফরিদপুর ও অন্যান্যরা পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, কলিমহর ইউনিয়নের বিএনপির মধ্যে দুইটি গ্রুপ রয়েছে। যার একটি গ্রুপ পরিচালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন। অপর একটি গ্রুপ পরিচালনা করেন কলিমহর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিধান কুমার বিশ্বাস।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের দক্ষিণ খোর্দ্দবসা (মুন্সী মোড়) এলাকায় ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির বিধান বিশ্বাস গ্রুপের অফিস ভাঙচুর ও মারপিট করার ঘটনা ঘটে। অফিস ভাঙচুরের সংবাদ পেয়ে বিধান গ্রুপের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে এলাকায় ডাকাত ঢুকেছে মর্মে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার গ্রুপের লোকজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
বিধান কুমার বিশ্বাস বলেন, আহতরা সকলেই আমার কর্মী সমর্থক। ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনা শুনতে পেয়ে তারা দেখতে যায়। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আমার বিপরীত গ্রুপের নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক ও মুক্তার হোসেনের নেতৃত্বে কালাম মেম্বার, লাল্টু মন্ডল, নাসির, মিন্টু, মিজান, টিটু, নাসিরুদ্দিনসহ ৮০-৯০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি আরো জানান, অ্যাডভোকেট রাজ্জাক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে কিভাবে নিজে উপস্থিত থেকে এ হামলা পরিচালনা করেন তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি ইতিপূর্বে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না বলেই হয়তো এ কাজ তার দ্বারা সম্ভব হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করছি। এ বিষয়ে আমি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
পাংশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ তাদের গ্রুপের লোকজন আমাদের ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে আমরা অফিস দেখতে গেলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় তাদের কাছে হাতুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, ফালা, রামদা, বেঁকি, টেটাসহ দেশীয় তৈরি নানারকম অস্ত্র ছিলো।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। ইউনিয়নের দুই গ্রুপের মধ্যে একটি ঝমেলা চলছিলো। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নের মনো, বিল্লালসহ বিধান গ্রুপের লোকজন কালাম মেম্বারের দোকান ভাঙচুর করে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪-৫জনকে ধরা হয়। পরে আমি তাদেরকে গ্রাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। আমি শুধু হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলাম।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়ন বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে একটি ঝামেলা হয়। পুলিশের মাধ্যমে সেই ঝামেলার সমাধান হয়। পরে বিধান গ্রুপের লোকজন ইউনিয়নের বসা-কুষ্টিয়া গ্রামে হামলা করে আমাদের দুইজন লোককে আহত করে। এখন তারা নিজেরাই তাদের অফিস ভাঙচুর করে আমাদের লোকজনের উপর দোষ চাপাচ্ছে।
এ ব্যাপারে কলিমহর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোয়ারুল ইসলাম মুরাদ মিয়া বলেন, প্রথমে তারা কলিমহর বাজারে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির অফিস ভাঙচুর করতে আসে। সেখানে প্রতিরোধের মুখে তারা সটকে পড়ে। পরে রাতে এই অফিস ভাঙচুর ও আমাদের লোকজনকে মারপিট করে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, আমি ও সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) স্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত দিন